ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে মাহমুদুর রহমান

হিন্দুত্ববাদকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-০৭-২০২৬ ০৩:০৫:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৭-২০২৬ ০৩:০৫:৪২ অপরাহ্ন
হিন্দুত্ববাদকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে ছবি : সংগৃহীত
আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, হিন্দুত্ববাদ ও হিন্দুধর্মকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। যেমন—ইহুদি ও জায়োনিজম এক বিষয় নয়, তেমনি হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদও এক নয়। হিন্দুত্ববাদের মূল ভিত্তি মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক রাষ্ট্র ভারতকে সামরিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদকে কেবল একটি ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ। তাই এর মোকাবিলাও রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে করতে হবে। মুসলিম বিশ্ব আজ মূলত জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের অভাবে পিছিয়ে পড়েছে। মুসলমানদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বাড়ানো।

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে বেদুইন প্রকাশনীর উদ্যোগে প্রকাশিত দুটি নতুন বই—এ এম আব্দুল্লাহ রচিত ‘বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লব’ এবং সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনীর গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ ‘হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা: মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং মুসলমান’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। Demographics

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আলী হোসেন ওসামা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেদুইন প্রকাশনীর প্রকাশক আনাস বিন মালেক এবং উদ্বোধন করেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসিম।

বক্তব্যের শুরুতে মাহমুদুর রহমান বলেন, “‘বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লব’ এবং ‘হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা: মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং মুসলমান’—এ দুটি বইয়ের বিষয়বস্তু আমাকে আকৃষ্ট করেছে। একটি বাংলাদেশের লেখকের রচনা, যেখানে জুলাই বিপ্লবের ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসেছে। অন্যটি ভারতের একজন গবেষকের লেখা, যা বাংলায় অনূদিত হয়েছে। আমি মনে করেছি, এ ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। সে কারণেই এই অনুষ্ঠানে আসতে সম্মত হয়েছি।”

তিনি বলেন, “‘বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লব’ বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নাম। আমি সব সময় জুলাইকে বিপ্লব বলি। অনেকেই এটিকে আন্দোলন বলেন, কেউ অভ্যুত্থান বলেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটি ছিল একটি বিপ্লব। কারণ বিপ্লব মানেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। যারা বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো ধরে রাখতে চান, তারা স্বাভাবিকভাবেই ‘বিপ্লব’ শব্দটি এড়িয়ে চলেন।” 

তিনি আরো বলেন, “রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী চায় বিদ্যমান স্ট্যাটাস কু বজায় থাকুক। কারণ সেটি টিকে থাকলে তাদের ক্ষমতাও টিকে থাকবে। কিন্তু বিপ্লব নতুন বন্দোবস্ত, নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলে। এ কারণেই অনেকের কাছে ‘বিপ্লব’ শব্দটি অস্বস্তিকর।”

জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বইটি এমন সময়ে লেখা হয়েছে, যখন মানুষের স্মৃতি এখনো সতেজ। ফলে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ কমে যায়। দুই বছর আগে কী ঘটেছিল, তা মানুষের মনে এখনো স্পষ্টভাবে রয়েছে। কেউ যদি নিজের মতো করে ইতিহাস লেখার চেষ্টা করেন, তাহলে তা সহজেই প্রশ্নের মুখে পড়বে।’

তবে ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়াকে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বই পড়ার অভ্যাস প্রায় হারিয়ে গেছে। আমরা এখন মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের পর্দায় আটকে গেছি। বইয়ের পাতা ওল্টানোর সংস্কৃতি কমে যাচ্ছে। অথচ বই না পড়লে ইতিহাস বিকৃত হলেও মানুষ তা বুঝতে পারবে না, প্রতিবাদও করতে পারবে না।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ